বিজ্ঞাপন ছাড়া ইউটিউব দেখার সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ মাধ্যম ব্রেভ ব্রাউজার। এখানে গুগল একাউন্টে লগ ইন করে ব্যবহার করলেও একাউন্টের কোনো রিস্ক নেই।
সুবিধাঃ
০। অ্যান্ড্রয়েড, আইফোন, উইন্ডোজ, লিনাক্স, ম্যাক - সব জায়গায় এটা ব্যবহার উপযোগী।
১। ফ্রি ও ওপেন সোর্স (সোর্স কোড)
২। ইউটিউবের গুরুত্বপূর্ণ সব প্রিমিয়াম ফিচার ফ্রিতে পাওয়া যায়। বিজ্ঞাপনবিহীন ভিডিও, ব্যাকগ্রাউন্ড প্লে এর মধ্যে অন্যতম।
৩। ইউটিউব দেখার পাশাপাশি এটা একটা পরিপূর্ণ ব্রাউজার। তাই, চাইলে প্রাইমারি ব্রাউজার হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব।
৪। ক্রোমিয়ামের উপর ভিত্তি করে বানানো হওয়ায় যারা ক্রোম চালাতে অভ্যস্ত, তাদেরও কোনো ইস্যু হবে না। পাশাপাশি সব প্রকার এক্সটেনশন ব্যবহারের সুযোগ আছে।
অসুবিধাঃ
১। প্রথমত এটা ব্রাউজার, তাই ইউটিউব অ্যাপ ব্যবহারে যেমন অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়, তা এখানে পাওয়া যাবে না।
২। যাদের প্রাইমারি ব্রাউজার অন্য কিছু, তাদের জন্যে শুধু ইউটিউব চালানোর জন্যে একটা আলাদা অ্যাপ ব্যবহার করা ঝামেলার।
সুবিধাঃ
১। পরিপূর্ণ ইউটিউব হওয়ায় ইউটিউবের মতো ইউজ করা যায়, যা সুবিধাজনক।
২। ইউটিউবের গুরুত্বপূর্ণ সব প্রিমিয়াম ফিচার ফ্রিতে পাওয়া যায়। বিজ্ঞাপনবিহীন ভিডিও, ব্যাকগ্রাউন্ড প্লে এর মধ্যে অন্যতম।
৩। একাউন্টে লগ ইন করা যায়, যার ফলে সব ডাটা Sync করা যায়।
৪। বাফারিং এক প্রকার হয় না বললে চলে।
অসুবিধাঃ
১। মূল সমস্যা হলো, ইউটিউবে কোনো আপডেট আসলে তখন অনেক সময় বাফারিংসহ অন্যান্য ইস্যু হতে পারে। (আপডেট করলে ঠিক হয়ে যায়।)
২। বাধ্যতামূলকভাবে MicroG ইন্সটল রাখতে হয়, যা নতুনদের জন্যে অসুবিধা মনে হতে পারে।
৩। অল্প কিছু প্রিমিয়াম ফিচার ব্যবহার করা যায় না। (যেমনঃ Play next in queue)। তবে, ম্যাক্সিমামের এসব ছোটখাটো ফিচার নিয়ে ইস্যু হওয়ার কথা না।
অন্য সব ইউটিউব ক্লায়েন্টের থেকে NewPipe ব্যক্তিগতভাবে আমার সবচেয়ে প্রিয়। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটার জন্যে তুলনামূলকভাবে ডিসট্রাকশন ফ্রি থাকা যায়।সুবিধাঃ
১। ফ্রি ও ওপেন সোর্স (সোর্স কোড)
২। একদম লাইটওয়েট
৩। ইউটিউবের বেসিক সব প্রিমিয়াম ফিচার ফ্রিতে পাওয়া যায়। বিজ্ঞাপনবিহীন ভিডিও, ব্যাকগ্রাউন্ড প্লে এর মধ্যে অন্যতম।
৪। বিল্ট-ইন ডাউনলোডার। (সরাসরি মেমরিতে সেভ হয়)
৫। একাউন্ট ছাড়াই চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব ও প্লেলিস্ট বানানো যায়।
৬। ইচ্ছেমতো ক্যাটাগরি অনুসারে চ্যানেল সাজিয়ে সেই অনুসারে ভিডিও দেখা যায়।
৭। সব ডাটা একবারে এক্সপোর্ট করা যায়।
৮। হোমপেজ নেই। তাই ইউটিউবের অ্যালগরিদমের ডিসট্রাকশন থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যায়
৯। ভিডিও চলাকালীন Enqueue করে পরবর্তী ভিডিওসহ একটা অস্থায়ী প্লেলিস্ট বানানো যায়।
(এটা ব্যবহারে অভ্যস্ত হলে এটা ছাড়া আর ইউজ করতে ভালো লাগবে না।)
অসুবিধাঃ
১। হোমপেজ নেই। তাই রিকমেন্ডেড ভিডিও আসে না।
২। লগ ইন করা যায় না। তাই, কোনো কারণে ব্যাকআপ নেওয়ার আগে অ্যাপ রিসেট হলে আগের ডাটা পাওয়ার কোনো উপায় নেই।
৩। গতানুগতিক ইউটিউবের চেয়ে UI ভিন্নধরনের। তাই, একদম নতুন ইউজার হলে একটু অসুবিধা হতে পারে।
৪। এটিতে SponsorBlock নেই। (তবে এর ক্লায়েন্টে আছে)
Tubular মধ্য দিয়ে ইউটিউব ক্লায়েন্ট ইউজ করা শুরু করেছিলাম এবং এখন অব্দি ব্যাবহার করে যাচ্ছি। আমার ব্যাক্তিগতভাবে সবথেকে প্রিয় এটি। এর সুবিধা অসুবিধা NewPipe এর মতোই। NewPipe এর বাহিরে এখানে বিশেষ যে সুবিধা আছে, তা নিচে দিচ্ছি।
উপরের অ্যাপগুলোর মধ্যে Brave ব্যতীত সবই মোবাইলের জন্যে। এইবার পিসি ইউজারদের জন্যে একটা অ্যাপ সাজেশন দেবো। সাধারণ ইউজারদের জন্যে Brave বেস্ট। কিন্তু, যারা আমার মতো NewPipe বা এর ক্লায়েন্ট ব্যবহারে অভ্যস্ত তাদের FreeTube ভালো লাগবেই! এটা NewPiper এর Fork না হলেও সবকিছু প্রায় এটার অনুরূপ।সুবিধাঃ
১। ফ্রি ও ওপেন সোর্স (সোর্স কোড)
২। মোটামুটি লাইটওয়েট
৩। ইউটিউবের বেসিক সব প্রিমিয়াম ফিচার ফ্রিতে পাওয়া যায়।
৪। SponsorBlock থাকায় ভিডিওর মধ্যে থাকা অপ্রয়োজনীয় অংশ বা বিজ্ঞাপন অটো স্কিপ হয়।
৫। বিল্ট-ইন ডাউনলোডার। (সরাসরি ডিভাইসে সেভ হয়)
৬। একাউন্ট ছাড়াই চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব ও প্লেলিস্ট বানানো যায়।
৭। আলাদা আলাদা প্রোফাইল বানিয়ে সব সাজিয়ে রাখা যায়।
৮। সব ডাটা একবারে এক্সপোর্ট করা যায়।
৯। হোমপেজ নেই। তাই ইউটিউবের অ্যালগরিদমের ডিসট্রাকশন থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যায়।
অসুবিধাঃ
১। অতিরিক্ত একটা সফটওয়্যার রাখতে হয়।
২। হোমপেজ নেই। তাই রিকমেন্ডেড ভিডিও আসে না।
৩। লগ ইন করা যায় না। তাই, কোনো কারণে ব্যাকআপ নেয়ার আগে অ্যাপ রিসেট হলে আগের ডাটা পাওয়ার কোনো উপায় নেই।
৪। গতানুগতিক ইউটিউবের থেকে UI ভিন্নধরনের। তাই, একদম নতুন ইউজার হলে একটু অসুবিধা হতে পারে।
uYou মূলত iOS ইউজারদের জন্যে। এর আপডেট ভার্সন uYou+ বা uYou Enhanced। আইফোন ইউজাররা এটির মাধ্যমে বিজ্ঞাপনবিহীন ইউটিউব দেখতে পারবে।iOS-এ বিজ্ঞাপনবিহীন YouTube দেখার জন্য দুটি ক্লায়েন্ট আছে -
uYou Plus
uYou Enhanced
সুবিধা:
১. ফ্রি ও ওপেন সোর্স। (সোর্স কোড)
২. ইউটিউবের বেসিক প্রিমিয়াম ফিচার ইউজ করা যায়। বিজ্ঞাপনবিহীন ভিডিও, ব্যাকগ্রাউন্ড প্লে এর মধ্যে অন্যতম।
৩. অনেকেই আছেন যারা YouTube-এর Shorts থেকে মুক্তি পেতে চান। তারা চাইলে YouTube Shorts Tab ডিজেবল, এমনকি YouTube Feed থেকেও সম্পূর্ণভাবে Shorts সরিয়ে ফেলতে পারবেন।
৪. অনেকেই চান YouTube-এর ভিডিও ডাউনলোড করে নিজের গ্যালারিতে রেখে দিতে। এই ক্লায়েন্টের মাধ্যমে খুব সহজেই ভিডিও ডাউনলোড করে গ্যালারিতে নিতে পারবেন।
★ আরও ফিচারস সম্পর্কে জানতে MNR Store এর লিংক দিয়ে দেবো। সেখান থেকে দেখে নিয়েন। (লিংক)
অসুবিধা:
১. আমরা Android-এ খুব সহজেই যেকোনো Open Source Software ডাউনলোড করতে পারলেও iOS-এর ক্ষেত্রে সেটা এতটা সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন একটি কম্পিউটার। তাই যারা iOS-এ এই সুবিধা ভোগ করতে চান কিন্তু কম্পিউটার নেই, তারা আপনাদের পরিচিতদের (যাদের কম্পিউটার আছে) থেকে কিছু সময়ের জন্য কম্পিউটার নিয়ে একবার Install করলেই হবে।
২. App টি Install করার পর সবার প্রথমেই যে সমস্যায় পড়তে পারেন সেটা হলো Video Play করলে App Crash করবে। এটার সমাধান এখানেই দেওয়া হলো:
1. Go to Settings on uYou+ / uYou Enhanced then go to settings.
2. Tap on "A/B"
3. Enable A/B settings if already not enabled
4. Search for "ModularPlayerBar Controller"
5. Toggle off "ModularPlayerBarController"
৩. যেহেতু এটা থার্ড পার্টি অ্যাপ, তাই মাঝে মাঝে Bug-এর দেখা যেতেই পারে। তখন ডেভেলপার এর ফিক্স করার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
অ্যাপ ইন্সটল পদ্ধতি:
আমরা সাধারণত Android-এ যেসব apk ডাউনলোড করি, iOS-এ সেগুলোকে ipa ফাইল বলা হয়। এই ipa ফাইলগুলো ডাউনলোডের জন্য বিভিন্ন মাধ্যম প্রয়োজন হয়। যেমন: AltStore, SideStore, Esign ইত্যাদি। এই অ্যাপ ইন্সটলের দুটো সোর্স:
1. AltStore
2. SideStore (Highly Recommended)
ভিডিও টিউটরিয়াল: SideStore
সুবিধাঃ
০। অ্যান্ড্রয়েড, আইফোন, উইন্ডোজ, লিনাক্স, ম্যাক - সব জায়গায় এটা ব্যবহার উপযোগী।
১। ফ্রি ও ওপেন সোর্স (সোর্স কোড)
২। আলাদা কোনো অ্যাপ বা ব্রাউজারের ঝামেলা নেই। যে ব্রাউজার ব্যবহার করছেন, সেটিতে এক্সটেনশন ইনস্টল করে নিলেই হবে।
৩। ইউটিউবের বিজ্ঞাপন ছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন ওয়েবসাইটেরও বিজ্ঞাপন ব্লক হবে।
অসুবিধাঃ
১। গুগল ইউটিউবে আপডেট এনে মাঝে মাঝে এর কার্যকারিতা বন্ধ করে দেয়।
২। অ্যান্ড্রয়েড হলে আলাদা ব্রাউজার ব্যবহার করতে হয়, যেটা একটা ঝামেলার। এক্ষেত্রে এর পরিবর্তে ব্রেভ ব্রাউজার ব্যবহার করা যেতে পারে।